সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ রিপনের পরিবারের মানবেতর জীবন

  • আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৪ ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৪ ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন
ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ রিপনের পরিবারের মানবেতর জীবন
সুনামগঞ্জে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন শহরতলির মাইজবাড়ি গ্রামের দিনমজুর রিপন মিয়া (১৮)। গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে গুলিবদ্ধ হন তিনি। সদর থানার সাবেক ওসি খালেদ চৌধুরীর গুলিতে রিপন গুরুতর আহত হন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রিপন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর পরিবারের লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি স্বজনের জন্য অস্থির সময় পার করছেন পরিবারের লোকজন।
 
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিপন মিয়া সুনামগঞ্জ শহরতলির মাইজবাড়ি গ্রামের কামাল উদ্দিন ও আছর বিবি দম্পতির বড় সন্তান। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবা অসুখ-বিসুখে বাড়িতেই পড়ে থাকেন। সংসারের হাল ধরতে ৭ম শ্রেণিতে পাঠদানের সময়ই একটি দোকানে শ্রমিকের কাজে নামেন রিপন। অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন রিপন। গত ৪ আগস্ট স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নামেন দিনমজুর রিপন মিয়া। এক পর্যায়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন রিপন। সদর থানার তৎকালীন ওসি খালেদ চৌধুরী তার পায়ে নল ঠেকিয়ে গুলি করেন। এতে গুরুতর আহত হন রিপন। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
 
গুলিবিদ্ধ কিশোর রিপন বলেন, হামলার সময় আমি দোকান থেকে বাড়ি যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশের গুলাগুলিতে একটি বাসার গ্যারেজে আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে সেখানে খোঁজে গিয়ে সরাসরি গুলি করে। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করি কিন্তু পুলিশের কোনো দয়া হয়নি। আমাকে যে গুলি করেছে আমি তার বিচার চাই।
 
এদিকে রিপন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর থেকেই তার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। রিপন মিয়ার মা আছর বিবি বলেন, আমার ছেলের আয়েই সংসার চলতো। সে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। তিনি বলেন, আমার ছেলেসহ অসংখ্য নিরীহ ছাত্র-জনতার উপর যারা হামলা করেছে তাদের বিচার চাই। তিনি বলেন, আমরা কিছু পাই বা না পাই হামলাকারীদের বিচার হলে আমরা শান্তি পাবো।
 
রিপন মিয়ার ছোট বোন রোজিনা বেগম বলেন, আমার ভাইয়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের পরিবারের সবাই কষ্টে আছি। জানিনা আমার ভাই আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবে কি না। আমার ভাইকে সুস্থ দেখতে চাই।
 
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এমএন মোর্শেদ বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালানোর কোন নির্দেশ ছিল না। মাঠপর্যায়ে কিছু অতিউৎসাহী কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে এই অন্যায় আচরণ করে থাকলে তাদের বিচার করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স